স্বাস্থ্যমন্ত্রী আসায় বদল গেল সব, এ যেন এক অন্য ওসমানী হাসপাতাল!
06 September 2026, 01:27
ওসমানী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনেই রাখা স্ট্রেচার, স্ট্রেচারের ওপরে আবার বেডশিট পাতানো, সাথে বালিশও আছে- সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমন দৃশ্য আগে কে দেখেছে কবে! স্ট্রেচারই যেখানে পাওয়া যায় না সেখানে আবার বালিশ-বেডশিট!
অথচ শুক্রবার সকালে ওসমানী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সমেনে গিয়ে দেখা গেল এমন বিরলতম দৃশ্য- বেডশিট মোড়ানো বালিশসহ স্ট্রেচার।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাথরুমগুলো যেখানে ঢুকলেই পেট গুলিয়ে বমি আসার উপক্রম হয় আর ময়লায়-দুর্গন্ধে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়েন- আজ সেগুলোর ভিন্ন দৃশ্য। একেবারে ঝকঝকে। কোথাও ময়লা আর্জনা নেই, দুর্গন্ধ নেই। বারবার পানি মারা হচ্ছে।
এ যেনো এক বদলে যাওয়া ওসমানী হাসপাতাল। তা হঠাৎ কী কারণে বদলে গেলো? এমনি এমনি তা হয়নি কিন্তু। শুক্রবার ওসমানী হাসপাতাল পরিদর্শনে যান
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তার আসায় খবরেই চিরচেনা অবস্থার বদলে এমন পরিচ্ছন্ন ওসমানী হাসপাতাল।
মন্ত্রীর আগমনের খবরে গত রাত থেকেই ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুরু হয় ব্যাপক ধোয়া-মোছা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান ঝাড়ু দেওয়া, মেঝে পরিষ্কার করাসহ নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
শুক্রবার সকালেও চলে এ পরিচ্ছন্নতার কাজ। সকালে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ওই ওয়ার্ডের বাথরুম পরিষ্কার করছেন এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী। ক্যামেরা দেখেই তিনি নিজেকে আড়াল করে ফেলেন। এর একটু পরেই এই ওয়ার্ড পরির্দশনে যান জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মন্ত্রী আসায় হাসপাতালের খাবারের মানেও এসেছে পরিবর্তন। একেবারে গরম গরম খাবার পরিবেশন করা হয়েছে রোগীদের। যা ছেকে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীও। তবে একরাতের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ছারপোকা তাড়ানো যায়নি। রোগীদের বিছানায় ছোরপোকা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রীও।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন কয়সর আহমদ বলেন, আজকে মন্ত্রী আওয়ায় কিছু পায় পরিষ্কার লাগের। আর নায় নোংরা অবস্থায় সবসময় থাকে। কাল থেকে তারা পরিষ্কার করা শুরু করেছে।
আরেক রোগীর স্বজন ফারুক আহমদ বলেন, মন্তী আসায় আজকে অনেক পরিবর্তন। খাবারের মান ভালো হয়েছে। সব পরিষ্কার।
আজ ডাক্তার ও নার্সরা এসে বারবার রোগীর খবর নিচ্ছেন বলেও জানান শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর অভিভাবক।
এ বিষয়ে জানতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




