প্রচ্ছদ

ননদদের ভূমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছেন ভ্রাতৃবধূ রাহেলা শেখ

১০ অক্টোবর ২০১৭, ০৯:৪৬

ফেঞ্চুগঞ্জ সমাচার

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ননদদের ভূমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছেন এক ভ্রাতৃবধু। শেখ রাহেলা নামের ঐ গৃহবধু এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে লন্ডন সফরকালে গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে তিনি কাল্পনিক বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেও।
গত ৯ অক্টোবর সোমবার দুপুরে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারস্থ সিলেট প্রেসক্লাব ও জিন্দাবাজারস্থ সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাদে দেউলী গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা মাহমুদা খানম ও তার বোন হামিদা বেগম। তারা দাবী করেছেন, তাদের একমাত্র ভাই শেখ আবু তাহিরের স্ত্রী শেখ রাহেলা লন্ডন সফরকালে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে সব বক্তব্য দিয়েছেন, তার সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাদের পিতার জীবদ্দশাতেই ফেঞ্চুগঞ্জের বাদে দেউলী গ্রামের পৈত্রিক বসতবাড়িটি তারা বোনেরা পিতার কাছ থেকে সাফকবালা দলিল করে কিনে নিয়েছেন। মাহমুদা খানম ও হামিদা বেগমদের ৮ বোনের মধ্যে ৫ বোন যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। ঐ ৫ বোন লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলন করে ভ্রাতৃবুধু শেখ রাহেলার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাহমুদা খানমের পুত্র আলমগীর জামান বুলবুল। উপস্থিত ছিলেন মাহমুদা খাতুনের পুত্র আব্দুস সালাম কামাল ও হামিদা বেগমের পুত্র জাহাঙ্গীর হোসেন সাহেদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিভিত বক্তব্যে মাহমুদ খানম বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার লন্ডন সফরকালে গত ৬ অক্টোবর ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়ার বাসিন্দা শেখ তাহির আলীর স্ত্রী শেখ রাহেলা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে ফেঞ্চুগঞ্জের ঘিলাছড়ায় তার কথিত সম্পত্তি আত্মসাতের কাল্পনিক অভিযোগ উত্থাপন করেছেন এবং এ বিষয়ে সিলেট-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলহাজ্ব মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরীকে জড়িত করার হীন অপচেষ্টা করেছেন। এ বিষয়ে সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় জনমনে নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা রাহেলা শেখের উত্থাপিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং তার অনৈতিক কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছ্।ি
মাহমুদ খানম বলেন, আমাদের পিতা মরহুম মো: তফজ্জুল আলী ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বাদে দেউলী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন, যিনি পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী হন। আমাদের চাচা মরহুম হাজী তজম্মুল আলী ফেঞ্চুগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ সভাপতি ছিলেন। আমার পিতার ৯ সন্তানের মধ্যে আমরা ৮ বোন যথাক্রমে- মাহমুদা খাতুন, হামিদা খাতুন, ফরিজা খাতুন, মৃত হাজিরা বেগম, হাসনা আলী, মরিয়ম ইসলাম, সালেমা জামান ও রাজনা চৌধুরী এবং আমাদের একমাত্র ভাই শেখ আবু তাহির। আমরা ৮ বোনের মধ্যে ৫ বোন ও একমাত্র ভাই দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। আমাদের জন্ম ও শৈশব কেটেছে আমাদের পৈত্রিক বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জের বাদে দেউলী গ্রামে। আমাদের একমাত্র ভাই শেখ আবু তাহির আমাদের সবার বড়। আমরা বোনেরা যখন একেবারে ছোট তখন আমার পিতা আমাদের একমাত্র ভাইকেও যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসেন। আমার পিতা মরহুম হাজী তফজ্জুল আলী যুক্তরাজ্য প্রবাসী হওয়ায় তিনি তার একমাত্র পুত্রের নামে লন্ডনে একটি বাড়ি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে আমার ভাই বাংলাদেশে এসে আমাদের একই উপজেলার রাজনপুর গ্রামের বাসিন্দা মহিউদ্দিন খান উরফে জড়ি খানে কন্যা রাহেলাকে বিয়ে করে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যান। দেশে অবস্থানকালে আমাদের ভ্রাতৃবধু শেখ রাহেলা আমাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেননি। পরবর্তীতে আমার ভাই তার স্ত্রী শেখ রাহেলাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে গেলে তারা আমাদের পিতার ক্রয়কৃত বাড়িতেই বসবাস করতে থাকেন। এর কিছুদিন পর সেটেলমেন্ট ভিসায় আমাদের মা ও ৪ বোনকে আমাদের পিতা যুক্তরাজ্যে নিয়ে গিয়ে ঐ বাসাতেই তুলেন। কিন্তু, আমাদের ভ্রাতৃবধু আমার মা বোনদেরকে সাদরে গ্রহণ করেননি। এক রাতে স্ত্রীর প্ররোচনায় আমাদের ভাই শেখ আবু তাহির, আমাদের বাবা-মা ও বোনদেরকে ঐ বাসা থেকে বের করে দেন। আমাদের ৪ বোন ও মা-বাবা প্রায় ১ বছর আমাদের এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রিত হিসেবে একটি ছোট কক্ষে বসবাস করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে আমার ভাই ও ভাবী আমাদের বাবা-মায়ের সাথে কোন সম্পর্ক রাখেননি। আমার ৫ বোন বিভিন্ন চাকুরী-বাকুরী করে আমাদের পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের ব্যয় বহন করেন। আমাদের একমাত্র ভাই কখনোই পিতা-মাতাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেননি। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে আমাদের ঐ ৫ বোনের দেয়া অর্থেই আমাদের বাবা গ্রামের বাড়ি বাদে দেউলী গ্রামে একটি ঘর নির্মাণ করেন।
লিখিত বক্তব্যে মাহমুদা বেগম আরো বলেন, আমাদের পিতা বৃদ্ধ বয়সে বাংলাদেশে চলে আসেন এবং আমাদের নিজ বাড়ি বাদে দেউলী গ্রামে বসবাস করেন। তার জীবদ্দশাতেই তিনি আমার বোনদের পাওনা মেটাতে আমাদের মূল বাড়ির ৫৬ শতক ভূমি আমাদের ৬ বোনের নামে সাফকবালা দলিল করে দেন। ফলে, আমরা নির্বিঘেœই আমরা বোনেরা পিতৃ সম্পত্তি ভোগাধিকার করে আসছি। আমাদের বোনদের খরিদা ভূমি ছাড়াও আমাদের পিতার রেখে যাওয়া অপরাপর সম্পত্তি আমরা এজমালি হিসেবে ভোগদখল করে আসছি। আমাদের পিতা-মাতা কেউ-ই বর্তমানে জীবিত নেই। আমাদের মা হনুফা খাতুন প্রায় ৫ বছর আগে যুক্তরাজ্যে মারা গেলে আমরা বোনেরা আমাদের মায়ের লাশ নিয়ে দাফন করতে দেশে আসেন। দেশে আসার পর আমাদের একমাত্র ভাই আমাদের মায়ের লাশ দাফন করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। দেশে আসলে আমরা বোনেরা আমাদের পিতৃভিটায় আমাদের বোনদের অর্থে নির্মিত বাড়িতে বসবাস করি। আমরা বোনেরা পিতার নিকট থেকে সম্পাদিত সাফকবালা দলিলমূলে ঐ বাড়ির মালিক হওয়া সত্বেও আমাদের একমাত্র ভ্ইা দেশে আসলে ঐ বাড়িতেই থাকতেন। আমরা কখনোই তাকে বাধা প্রদান করিনি। চলতি বছরের ১০ জুলাই আমাদের ২ বোন হাছনা আলী ও রাজনা চৌধুরী আমাদের পিতা-মাতার কবর জিয়ারত ও শিরণী করার উদ্দেশ্যে হ্রামের বাড়ি বাদে দেউী গ্রামে আসেন। বাদে দেউলি গ্রামে আমাদের নিজ বসত ঘরে গিয়ে আমার বোনরা দেখতে পান ঘরটি তালাবদ্ধ করা। এ সময় আমরা আমাদের বাড়ির কেয়ারটেকার মছব্বিরকে ঘর খুলে দিতে বললে সে জানায়, আমাদের ভাই শেখ আবু তাহির ঘর খুলে না দেয়ার জন্য বলেছেন। কেয়ারটেকার মছব্বির ঐ ঘরে আমার বোনদের নিজ টাকায় কেনা আসবাবপত্র তালাবদ্ধ করে রাখে। নিরুপায় হয়ে আমার বোনের ঐ রাতে পাশ্ববর্তী বোনের বাড়িতে রাত্রিযাপন করেন এবং পরবর্তীতে পঞ্চায়েতের মুরুব্বীয়ানদের সহায়তায় আমার বোনেরা ঘরে প্রবেশ করেন। দেশে অবস্থানের পুরো সময়টাই আমার বোনেরা ঐ বাড়িতে কাটান। আমার বোনেরা আমাদের বসত বাড়িতে বসবাস করতে থাকলে আমাদের ভ্রাতৃবধু শেখ রাহেলার ভাই আল মারুফ খান বাদী হয়ে আমাদের ২ বোনসহ ৫ জনকে আসামী করে সিলেটের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি চুরির মামলা দায়ের করে (মামলা নং-৪৪/২০১৭)। এছাড়া, উক্ত কেয়ারটেকার মছব্বির আমাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ এনে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায়ও একটি মামলা দায়ের করে (মামলা নং- ৯/৬৭, তাং-২৭/০৯/২০১৭ ইং)। দুটি মামলাই এখন তদন্তাধীন আছে। ঐ মামলাগুলোতে আমারা অশীতিপর বৃদ্ধাদেরকেও আসামী করা হলে আমরা আদালত থেকে জামিন নিতে বাধ্য হয়েছি।
মাহমুদা বেগম বলেন, এ সব ঘটনার সাথে আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর কোন সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্বেও নিতান্ত সন্দেহের বশে আমাদের ভ্রাতৃবধু শেখ রাহেলা ঘটনার গুরুত্ব বাড়াতে পরিকল্পিতভাবে জনাব মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী এমপির নাম জড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হন। তিনি তার কথিত জায়গা দখলের কাল্পনিক অভিযোগে এমপি মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরীকে জড়িয়ে আমাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। এছাড়া, সর্বশেষ তিনি অবৈধ ফায়দা হাসিলের হীন উদ্দেশ্যে লন্ডন সফরকালে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে আমাদের বিরুদ্ধে অবান্তর অভিযোগ প্রদান করেছেন। আমাদের ভ্রাতৃবধু শেখ রাহেলার কারণে এক দিকে যেমন আমাদের পারিবারিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, অন্যদিকে, আমাদের এলাকার কৃতিসন্তান জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর নিষ্কলুষ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারেও কালিমা লেপন করা হচ্ছে। আমাদের পিতার রেখে যাওয়া এজমালি সম্পত্তি আত্মসাতের হীন উদ্দেশ্যেই আমাদের ভ্রাতৃবধু তার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশে অবস্থানরত আমাদের দুই বোন ও তাদের সন্তানদেরকেও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি ও তাদের প্রাণনাশের হুমকী দিচ্ছেন আমাদের ভ্রাতৃবধু শেখ রাহেলা।
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদা বেগম আরো বলেন, আমরা যে বাড়িতে বসবাস করছি সে বাড়িটি আমাদের সাফকবালা দলিলমূলে খরিদকৃত। এই বাড়িতে আমাদের খরিদা ভূমির পরিমাণ ৫৬ শতক, যার তফশীল হলো- ‘জিলা- সিলেট, থানা- ফেঞ্চুগঞ্জ, পরগণা- ঘিলাছড়া, মৌজা- দেউলী, জে.এল নং-১৯ স্থিত জরিপের সাবেক ১০২৬নং খতিয়ানভূক্ত সাবেক ২৪১২ নং দাগের সৃষ্ট হাল জরিপের বুজারত ৩৪৬৭ নং খতিয়ানভূক্ত ৩০৬৬নং দাগের টিলা ও চারা রকম মোয়াজি ৫৬ শতক ভূমি‘। আমাদের ৬ বোন এই ভূমি আমাদের পিতার নিকট থেকে ০৮/১১/২০০০ ইং তারিখে সাফকবালা দলিল (নং-১৪৪৯) সম্পাদন করে মালিক, স্বত্ববান ও দখলকার আছেন। অন্যদিকে, আমাদের ভাই আমাদের পিতার নিকট থেকে অছিয়তনামা মূলে আমাদের পার্শ্ববর্তী ৩০৭৮নং দাগের যে ভূমি নিজ হিসেবে দাবী করছেন, তাতে আমাদের কোন দাবী নাই। সুতরাং, আমরা তার ভূমি জবর দখলের কোন প্রশ্নই উঠেনা। নিতান্ত প্রতিহিংসা বশতঃ আমাদের ভ্রাতৃবধু শেখ রাহেলা আমাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, যার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম

ফেসবুকে ফেঞ্চুগঞ্জ সমাচার