প্রচ্ছদ

সিসিক’র অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর বদলি ঘিরে অনিশ্চয়তা

25 September 2026, 18:30

ফেঞ্চুগঞ্জ সমাচার

ফেঞ্চুগঞ্জ সমাচার ডেস্ক ::: সিলেট নগরীর আঁকাবাঁকা অলিগলি থেকে শুরু করে সুরমা পাড়ের সবুজ প্রান্তর—সবখানেই এখন আধুনিকায়নের ছোঁয়া। তিলোত্তমা সিলেটের প্রতিটি দৃশ্যমান সৌন্দর্যের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে দুই জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীর নিরলস শ্রম ও কারিগরি দূরদর্শিতা। সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজ—এই দুই নাম এখন সিলেটবাসীর মুখে মুখে। সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মেয়াদে তিলোত্তমা সিলেট গড়ার যেসব মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবে রূপ দিতে এই দুই প্রকৌশলী দেখিয়েছেন অনন্য দক্ষতা।
​দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে ধোপাদিঘীরপাড়, সাগদিঘীরপাড়, গোয়াবাড়ী, আরামবাগ ও গাজী বুরহান উদ্দিন এলাকার নান্দনিক ওয়াকওয়ে—প্রতিটি প্রকল্পই আজ সিলেটের রূপ বদলে দিয়েছে। নগরীর ঘিঞ্জি রাস্তাঘাট প্রশস্ত করা, ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট পুনঃনির্মাণ কিংবা বছরের পর বছর ধরে দখলে থাকা ছড়া ও খাল উদ্ধার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার মতো কঠিন কাজগুলো তারা বাস্তবায়ন করেছেন নিখুঁতভাবে।
​তবে নগর রূপান্তরের এই অভিজ্ঞ রূপকারদের বদলি সংক্রান্ত গুঞ্জনে এখন মেঘ জমছে সিলেটবাসীর মনে। হঠাৎ এই দুই অভিজ্ঞ প্রকৌশলীকে সরিয়ে নেওয়া হলে সিসিকের চলমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে পড়তে পারে; এমন শঙ্কায় ভাসছেন সচেতন নাগরিকরা।
​স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ১ থেকে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি অলিগলি, ভৌগোলিক অবস্থান এবং ছড়া-খালের জটিল সমস্যাগুলো তাদের নখদর্পণে। দীর্ঘদিনের এই মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকেই তারা দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। কিন্তু নতুন কেউ এই জায়গায় দায়িত্ব নিলে পুরো নগরীর মেগা প্রজেক্ট ও স্থানিক সমস্যাগুলো বুঝতে বুঝতেই দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাবে। ফলে ব্যাহত হতে পারে নাগরিক সেবা, তৈরি হতে পারে উন্নয়ন জট।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, অবকাঠামোগত চ্যালেন্জ মোকাবেলায় অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার কোনো বিকল্প নেই। সিলেটের এই অভিজ্ঞ দুই কর্মকর্তা দায়িত্ব বজায় রাখলে চলমান রূপান্তরের ধারা বজায় থাকবে। অন্যথায়, নতুনদের জটিলতায় সিলেটের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থমকে যাওয়ার আশঙ্কাই করছেন সাধারণ নগরবাসী।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম

ফেসবুকে ফেঞ্চুগঞ্জ সমাচার